নিজস্ব প্রতিবেদক:
সম্প্রতি ঢাকার উত্তর সিটির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের এবং গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটস। `
৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু জেহাদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদমান শরীফ।
সমাবেশে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ফজলে রাব্বী শরণ এবং উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মিজবাউল ইসলাম কয়েস।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, বিচারহীনতা, গণপিটুনি, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় নিহতদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ফজলে রাব্বি শরণ বলেন, আপনারা আজ সারা বাংলাদেশে গণপিটুনির ভয়াবহতা দেখতে পাচ্ছেন। নিরীহ শিশু—স্কুলের শিক্ষার্থীরা—নিহত হয়েছে, অথচ তাদের লাশেরও কোনো হিসাব নেই। কেন সেই লাশগুলো গুম করা হলো?
তিনি আরও বলেন, আমরা লাশের রাজনীতি সমর্থন করি না। যে-ই হোক, যে দলই হোক, যে সরকারই হোক, কিংবা যে-ই মানবাধিকার লঙ্ঘন করুক না কেন—আমরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব।
আবু জেহাদ দাবি করেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্ঘটনাটি, আমাদের বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে সাজানো একটি মেটিকুলাস ছিল। গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন সেখানে হত্যা, নৈরাজ্য, হামলা এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে আমরা যে অর্থে মানবাধিকার বুঝি, তার কোনো অস্তিত্ব আর নেই।
সমাবেশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্রমবর্ধমান গণপিটুনির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদের কণ্ঠ উচ্চকিত করতে আজ আমরা ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটস-এর পক্ষ থেকে এখানে সমবেত হয়েছি।
বক্তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, ইতিহাস বিকৃতি, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তারা সাম্প্রতিক সকল সহিংস ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদান এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমেদ রাজ, সহ-সভাপতি সৌরভ চৌধুরী, বাবুল তালুকদার, সরওয়ার হোসেন সাজু, মাহিন উদ্দিন আহমেদ, সৌরভ আহমেদ, মো. রুবেল মিয়া, কুতুব উদ্দিন, জাবির আহমেদ, সাবিকুন্নাহার এবং গৌতম কুমার সেন।
এছাড়া বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ তানিম আহমেদ, সহকারী সম্পাদক সোলেমান আহমেদ সৌরভ, প্রচার সম্পাদক শাহান মিয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো: জুনেদ মিয়া, অফিস সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মিডিয়া অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক সামিয়া ইয়াসমিন, সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক বাপ্পি রঞ্জন তালুকদার প্রীতম, শাহিদা আক্তার রিবা এবং সদস্য রোমান আহমেদ, মো: আব্দুল্লাহ, মুজাম্মেল আহমেদ রায়হান, মো: বুলবুল মিয়া, তাসলিমা বেগম ও রিমা আক্তার পলি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নুসরাত জাহান পর্ণা, হুসাইন আহমেদ চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, যুগ্ম সম্পাদক মামদুল করিম চৌধুরী, মো: সাজেদুল ইসলাম সানজিদ, শাহজাহান আহমেদ, শাহান আহমেদ শাহিন, রাশেদুল হাসান, সহকারী সম্পাদক সোলেমান আহমেদ সৌরভ, জনসংযোগ সম্পাদক মো: সাইকুল কামাল ও লাদেন হাসান, অফিস সম্পাদক লোকমান হেকিম, নারী ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক নাদিয়া আক্তার, উইমেন অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক জিবা বেগম ও মরিয়ম বেগম, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট সম্পাদক মুমতিহিনা জাহান নাদিয়া,মরিয়ম খাতুন, ক্যাম্পেইন সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সদস্য মো: আব্দুল সেলিম, আরিফুল হক, সামিয়া আক্তারসহ সংগঠনের আরও অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক।
সমাবেশ শেষে আয়োজকরা বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সকল ধরনের সহিংসতা ও বিচারহীনতার অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

