নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে Equal Rights International কর্তৃক এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬। “Protect Democracy and Human Rights in Bangladesh: Establish July Referendum” শীর্ষক এই সমাবেশটি সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান গনি এবং সহ-সভাপতি মোঃ হাসনাত আল হাবিবের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এবং সভাপতিত্ব করেন সহ-সভাপতি মোঃ রোকতা হাসান। এতে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি নিজামুদ্দিন, স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটসের অফিস সম্পাদক সৈয়দ জুয়েল ।উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইআরআই এর সহ-সভাপতি মো: ইমাম হোসাইন, এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল নওশীন মোস্তারি মিয়া সাহেব।
সমাবেশে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকারকর্মীরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন বাংলাদেশে একটি গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে গণরায় প্রদান করেন। এই গণরায়কে তারা জনগণের সুস্পষ্ট ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়াও শরীফ হোসেন হাদী হত্যার বিচারের জন্য সরকারকে তাগিদ দেন।
উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের,সহ-সভাপতি রুবেল আহমদ, মোঃ আনোয়ারুল আমিন, অর্থ সম্পাদক মোঃ মাসুদুল হাসান, মাইনরিটি রাইট সেক্রেটারি তাহমিনা আক্তার, জয়েন্ট সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ মিলাদ, আমিনুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম (রাব্বি), অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো: জাবেদ আহমেদ, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ সোহরাব আলী, মোঃ হানিফ আহমেদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি সায়েম আহমদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি আবু জেহাদ, উইমেন রাইটস সেক্রেটারি মোমতাহিনা জাহান নাদিয়া, পাবলিসিটি সেক্রেটারি আব্দুল সালাম, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন ও সাদমান শরীফ, পাবলিসিটি সেক্রেটারি তোফায়েল আহমেদ, মিডিয়া অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি শাকিল আহমেদ সোহাগ, এবং ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি রুহুল আমিন তোফায়েল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়াজ কাউসার, আব্দুল্লাহ আল জাবির, বেলাল আহমেদ রনি, কাজী মোহাম্মদ ইমদাদ, সাইদুল ইসলাম, লোকমান হাকিম, তাহমিনা আক্তার, ফেরদৌসী আক্তার রুনা, সৌরভ চৌধুরী, মোহাম্মদ লিটন আলী মোল্লা, তাবাসসুম শাফাসহ আরও অনেকে।
প্রধান বক্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের বক্তব্যে শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়। তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড একটি গুরুতর ঘটনা, যা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া ইআরআই-এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদীর হত্যা বাংলাদেশের জন্য একটি অশনি সংকেত। তিনি দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার। এই হত্যার বিচার না হলে বাংলাদেশ শিগগিরই অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।
মো: হাসনাত আল হাবিব বলেন, একটা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গণ রায়ের মাধ্যমে। জুলাই রেফারেনডাম এর মাধ্যমে জনগণ “হাঁ”ভোট দিয়ে তাদের গণরায় দিয়েছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এই গণরায় একটি প্রতিষ্ঠা করা। তা না হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মত আরেকটি অভ্যুত্থান এ সরকার দেখতে পাবে। বিগত স্বৈরাচার সরকার পার্শ্ববর্তী দেশে পালাতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সুযোগটি ও পাবে না।
সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাপনী বক্তব্যে উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতি মোঃ রোকতা হাসান বলেন, আমরা এই বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বর্তমান সরকারের নেতাকর্মী সহ বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে একত্রে নানান বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি। এবং বিগত স্বৈরাচার সরকারকে হটাতে বাধ্য করেছি। তাই আমরা বিএনপি সরকারকে হুশিয়ার করে বলতেছি, আমরা অতীত ভুলে যাইনি আপনারা অতীতকে ভুলে যাবেন না। আপনারা জানেন আমরা স্বৈরাচার দমনে এই রাজপথে ছিলাম । যদি আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে স্বৈরাচারী হন তবে আমরা আপনাদেরকে ক্ষমতা থেকে টেনে হিচড়ে নামাতে বাধ্য করব।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা “Protect Democracy”, “Human Rights for All”, “Justice for Hadi” এবং “Respect the People’s Mandate”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে ইআরআই এর পক্ষ থেকে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল নওশীন মোস্তারি মিয়া সাহেবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বরাবর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।



