নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (ইআরআই) এবং উইমেনস রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (ডব্লিউআরআই)।
সোমবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডব্লিউআরআই-এর সভাপতি নাদিয়া ফাতেমা এবং সঞ্চালনা করেন ইআরআই-এর সহ- সভাপতি মোহাম্মদ রোকতা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনক্লাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল-এর সভাপতি নিজামউদ্দিন এবং স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটস-এর সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল আলম চৌধুরী। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইআরআই-এর সেক্রেটারি নওশিন মোস্তারি মিয়া সাহেব।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইআরআই-এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রুবেল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক ইউসুফ মিয়া, সহকারী সম্পাদক রেজাউল করিম রাব্বি, শিরাজুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক বাপ্পি রঞ্জন তালুকদার প্রীতম, নারী অধিকার সম্পাদক মরিয়ম খাতুন, প্রচার সম্পাদক কাকলি আক্তার, ডব্লিউআরআই-এর প্রচার সম্পাদক মায়েদা হোসাইন রাফা, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংবাদিক ফারিয়া আক্তার সুমিসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উক্ত বিক্ষোভ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইআরআইয়ের মোঃ বদরুল ইসলাম, স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটসের অফিস সেক্রেটারি সৈয়দ জুয়েল, ইআরআইয়ের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহমুদ হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারি রাহাদুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম (রাব্বি), ইআরআইয়ের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবিএম আকরাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো: জাবেদ আহমেদ, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ সোহরাব আলী, মোঃ হানিফ আহমেদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি সায়েম আহমদ, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি কাকলি আক্তার, মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন সেক্রেটারি আবু জেহাদ,পাবলিসিটি সেক্রেটারি আব্দুল সালাম, পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম জিসান, ইআরআইয়ের এর সদস্য, আখতারুজ্জামান, শাহ মোঃ হাসান মাহমুদ, ডব্লিউআরআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সামির আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জান্নাত, এক্সিকিউটিভ মেম্বার জুয়েল আহমেদ মাহিন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার রেখা আক্তার প্রমূখ।
নাদিয়া ফাতেমা বলেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারীরাও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে আসছে। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পান।
মোঃ রোকতা হাসান বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, উপাসনালয় এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বাপ্পি রঞ্জন তালুকদার প্রীতম বলেন, আমরা হিন্দু বলে আমার পরিবার বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমরা চাই, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারুক। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, উপাসনালয়ে হামলা কিংবা ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা—এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মরিয়ম খাতুন বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিজামউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।



